দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন শেষে আগামীকাল বৃহস্পতিবার দেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পৌঁছাবেন। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বড় ছেলে হিসেবে তার প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে বলে প্রত্যাশা করছেন দলের নেতাকর্মীরা।
স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে রাজধানীর কুড়িলের ৩০০ ফিট এলাকায় তারেক রহমানকে গণসংবর্ধনা দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যেই সারা দেশ থেকে নেতাকর্মীরা ঢাকায় আসা শুরু করেছেন। অনুষ্ঠানস্থলের প্রস্তুতিও প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিক অনুমতি মিলেছে।
দলীয় নেতারা জানিয়েছেন, সংবর্ধনায় অন্তত ৫০ লাখ মানুষ উপস্থিত থাকার আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে এই আয়োজনের মাধ্যমে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রেক্ষিতে দলের শক্তি প্রদর্শনের লক্ষ্যও রয়েছে। সংবর্ধনা মঞ্চ পরিদর্শন শেষে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, অর্ধকোটি মানুষের উপস্থিতি আশা করা হচ্ছে।
সংবর্ধনার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সরকার এবং বিএনপির নিজস্ব সিকিউরিটি ফোর্স সহ সর্বোচ্চ সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও আশেপাশের এলাকা নিরাপত্তার জন্য জোরদার করা হয়েছে। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার জন্য সাধারণ ভিজিটরদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে।
তারেক রহমানের বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি ২০২০ ফ্লাইটে বুধবার সন্ধ্যা সোয়া ৬টায় লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে ঢাকা যাত্রা শুরু হবে। ফ্লাইটটি বোয়িং ৭৮৭-৯ মডেল এবং বিজনেস ক্লাসে তার সঙ্গে থাকবেন স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা জারনাজ রহমান।
দেশে পৌঁছানোর পর তারেক রহমান সরাসরি এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে দেখতে যাবেন এবং এরপর গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন।
দলের দায়িত্বশীলরা মনে করছেন, ২০০৭ সালের ওয়ান-ইলেভেনে গ্রেফতার হওয়া ও ২০০৮ সালে যুক্তরাজ্যে নির্বাসনে পাঠানো পরিপ্রেক্ষিতে তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের রাজনীতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং তা ইতিমধ্যেই ব্যাপক উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে।
